Categories
BBlog

কন্টেন্ট রাইটিং কি? কত প্রকার এবং এর উল্লেখযোগ্যক্ষেত্র

কন্টেন্ট কিংবা আর্টিকেল যেটাই বলি না কেন দুইটারই অর্থ কিন্তু আমরা সবাই জানি আর এই দুইটাই কিন্তু লিখার অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই আছে।


জি, অবাক হবার মত কিছু আমি বলিনি। আমার মতো আপনারও নিশ্চই এস এস সি আর এইচ এস সি তে ইংরেজি ছিল আর সেখানে আপনারাও নিশ্চই ফেমিনিজম, মাই মম, গ্লোবালাইজেশন কিংবা দা গ্রেট ওয়ারিয়র অফ অল টাইম এর উপর পরীক্ষার খাতায় এসে (প্রবন্ধ) লিখেছেন। তারপরেও আজ একটু ভিন্য ভাবে আমরা এর সাথে পরিচিত হবো। একটু ভিন্য ভাবে হবার কথা বলছি একারণেই যে এই কন্টেন্ট রাইটিং এর সাথে টাকা পয়সার একটা ব্যাপার আছে।


টাকা পয়সার ব্যাপার টা নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে। আজকে চলুন কন্টেন্ট কে একহাত দেখে নেই। কন্টেন্ট এর বাংলা অর্থ হলো বিষয়বস্তু আর এর অর্থের সাথে এর পরিচয়ের পুরোপুরি মিল রয়েছে। আমরা ইউটিউবে যে ভিডিও গুলো দেখি সেগুলোও কন্টেন্ট। সেগুলো হলো একটা ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও কন্টেন্ট।


ঠিক তেমন, আমরা ফেসবুকের রাইটিং হ্যাক্স গ্রূপের যে লিখাটি এখন পড়ছি সেটাও ফেসবুকের একটা কন্টেন্ট, টেক্সট কন্টেন্ট। ফেসবুকে অনেক ধরণের কন্টেন্ট আছে, যথা: টেক্সট কন্টেন্ট, স্লাইড কন্টেন্ট, লাইভ কন্টেন্ট সহ আরও কত কি।


আপনার একটা ইমেইল অবশ্যই আছে আর ইমেইল না থাকলে মোবাইল নাম্বার তো আছেই। সেই মোবাইলেও কিন্তু মাঝে মাঝে বিভিন্য ম্যাসেজ আসে, সেই ম্যাসেজ গুলোই হলো এস এম এস কন্টেন্ট আর ইমেইলে যে গুলো আসে সেগুলো ইমেইল কন্টেন্ট।


অনুরূপ ভাবে আমরা প্রতিদিন যে বিভিন্য ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট গুলো ভিজিট করি সেগুলোতেও আমরা অনেক অনেক আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু দেখে থাকি। সেগুলোর সবই হল ওয়েব কন্টেন্ট। একটি ওয়েবসাইটে ইমেজ কন্টেন্ট থাকে যা গ্রাফিক্স ডিজাইনার রা তৈরী করে থাকেন, ভিডিও কন্টেন্ট থাকে যা ভিডিও এডিটর রা তৈরী করে থাকেন আর তারপর সবচেয়ে বেশি পরিমানে যে কন্টেন্ট থাকে তা হলো টেক্সট কন্টেন্ট আর সেগুলোই আমরা যারা কন্টেন্ট রাইটার আছি তারা তৈরী করে থাকি অর্থাৎ লিখে থাকি।

কি বুঝলেন?

বিভিন্য ইকমার্স সাইট, বিজনেস সাইট সহ সকল ধরণের সাইট বাদ দিয়ে পৃথিবীতে শুধু ব্লগ সাইটই আছে সাত লাখেরও বেশি।

আর যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইটেই টেক্সট কন্টেন্ট বা আর্টিকেল থাকে সব চেয়ে বেশি। ইমেজ ছাড়া একটা ওয়েবসাইট হতে পারে, একটা সাইটে ভিডিও কন্টেন্ট নাও থাকতে পারে, কিন্তু টেক্সট কন্টেন্ট বা আর্টিকেল ছাড়া একটা সাইট তৈরী হতে পারে না আর ওয়েবসাইটের এই আর্টিকেল গুলো লিখালিখির কাজ টাকেই বলা হয় কন্টেন্ট রাইটিং।
আমার খুব প্রিয় একটা ইংলিশ সাইট হলো ওয়্যারকাটার (Wirecutter.com) আর বাংলা একটা সাইট হলো চড়ুই (Chorwe.com)।

এই ওয়েবসাইট গুলোতে যত আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট আছে তার সবগুলোই বিভিন্য আর্টিকেল রাইটার বা কন্টেন্ট রাইটার দিয়ে লেখানো। এরকম আরো প্রায় সাত লাখ ওয়েবসাইট আছে, আর এত এত সাইট চালু রাখতে কোটি কোটি ওয়ার্ড প্রতিদিন লিখা হচ্ছে।


বিভিন্ন জরিপের তথ্য মতে বিশ্বব্যাপী ব্লগিং বা ওয়েবসাইট একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যাবসা, তাই খুব দ্রুত এই ব্যবসাটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু সেই হারে কনটেন্ট রাইটার তৈরী হয়নি। একারণেই অনলাইনে কন্টেন্ট রাইটিং বেশ নির্ভরযোগ্য একটি সেক্টর।


বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো মার্কেটপ্লেস ফাইভারে গেলে দেখতে পাবেন যে হাজার হাজার লোগো ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা ডিজিটাল মার্কেটিং এর গিগ রয়েছে, কিন্তু সেই হারে কন্টেন্ট রাইটিং গিগ খুবই কম দেখতে পাবেন। এদিক থেকেও খুব সহজেই কন্টেন্ট রাইটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। কন্টেন্ট রাইটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার বিভিন্য হ্যাক্স নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করবো। আজ এ পর্যন্তই। ধন্যবাদ।


কন্টেন্ট রাইটিং কত ধরনের হতে পারে?


কন্টেন্ট প্রথমত চার প্রকার। যথা –

১) ভিডিও কন্টেন্ট
২) অডিও কন্টেন্ট
৩) ইমেজ কন্টেন্ট
৪) টেক্সট কন্টেন্ট

এই চার প্রকার কন্টেন্টের ভিতর রাইটার হিসেবে আমরা শুধু টেক্সট কন্টেন্ট নিয়েই কাজ করবো। এই টেক্সট কন্টেন্টের আরেকটি নাম হলো আর্টিকেল। এই ধরণের কন্টেন্ট তথা আর্টিকেল বা টেক্সট কন্টেন্ট আবার (ক) ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট (খ) এন্টারটেইনিং কন্টেন্ট ও (গ) পারসুয়েসিভ কন্টেন্ট এই তিন ভাগে বিভক্ত। তাহলে চলুন আমরা এদের মধ্যে প্রথম এবং শেষেরটি নিয়ে জেনে নেই।

ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট: এই টাইপের কন্টেন্টের সাথে আমরা খুব ভালো ভাবে পরিচিত। বিভিন্য সময় আমরা বিভিন্য জায়গা ঘুরতে যাই আর কোনো জায়গা যাবার আগে সেখানে কিভাবে যেতে হয়, যাবার খরচ কেমন, সেখানে থাকা খাওয়ার খরচ কেমন – এই জাতীয় তথ্য গুলো আমরা গুগলে সার্চ করে থাকি। সেই সার্চ রেজাল্টে আমরা যে ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেল গুলো পেয়ে থাকি সেগুলোই ইনফোরমেটিভ কন্টেন্ট।

কোনো জায়গা সম্পর্কে, কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে, কোনো সার্ভিস সম্পর্কে কিংবা অন্য যেকোনো বিষয় সম্পর্কে যে কন্টেন্টে বিভিন্য তথ্য উপস্থাপন করা হয় সেগুলোই ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট। আমরা কোনো রেসিপি কিভাবে রান্না করবো কিংবা আমাদের মাথার উপর ঘুরতে থাকা ফ্যানটা কিভাবে পরিষ্কার করবো ইত্যাদি যে কোনো ইন্সট্রাকশনাল বা হাউ টু টাইপ কন্টেন্ট ও এই ইনফরমেটিভ কন্টেন্টের অন্তর্ভুক্ত।


এন্টারটেইনিং কন্টেন্ট: ভাইরাল কন্টেন্ট বলে আমরা যে কন্টেন্ট গুলোকে বুঝিয়ে থাকি তার বেশির ভাগই এই এন্টারটেইনিং কন্টেন্ট আর কিছু কিছু নিউজ কন্টেন্ট বা ইনফরমেটিভ কন্টেন্টের ভিতর পড়ে। যে কন্টেন্ট গুলো আমরা রিডারকে ইনফরমেটিভ কন্টেন্টের মতো কোনো কিছু শিখানো, জানানো বা এডুকেট করার জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র আনন্দ দেবার জন্যই লিখে থাকি সেগুলোই এন্টারটেইনিং কন্টেন্ট।

পারসুয়েসিভ কন্টেন্ট: ওয়েব কন্টেন্ট বা অনলাইন কন্টেন্টের জগতে এই টাইপের কন্টেন্টই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন রিডারকে হাজার হাজার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ভিতর থেকে নির্দিষ্ট কোনো প্রোডাক্ট ক্রয় বা সার্ভিস গ্রহণের প্রতি উৎসাহিত করে যে কন্টেন্ট গুলো লিখা হয় সেগুলোই হলো পারসুয়েসিভ কন্টেন্ট। রিভিউ আর্টিকেল বা অ্যামাজন প্রোডাক্ট রিভিউ আর্টিকেল ই হলো এই পারসুয়েসিভ কন্টেন্ট।
একজন নতুন রাইটার আর একজন পুরাতন রাইটারের পার্থক্যটা এখানেই ফুটে উঠে। একজন অভিজ্ঞ রাইটার একটা ইনফোরমেটিভ আর্টিকেলও যথেষ্ট পারসুয়েসিভ স্টাইলে লিখে থাকেন। পারসুয়েসিভ কন্টেন্টের মূল বিষয় হলো আপনার লিখাটি যথেষ্ট এনগেজিং হতে হবে যেন রিডার আপনার লেখাটি পড়ার পর আপনি যে প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলছেন সেটা কিনে নিতে আর দেরি না করে।

কন্টেন্ট রাইটিং এর উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র


কন্টেন্ট রাইটারদের জন্য অনেক অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি একটু খোঁজ নিলে জানতে পারবেন যে আপনার এলাকাতে বেশ অনেক গুলো ছোট ছোট কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন প্রোডাক্ট উৎপাদন করে।

তাদের প্রোডাক্টের ডিসক্রিপশন গুলো একটা ভালো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ডিস্ক্রিপশানের সাথে মিলিয়ে দেখলেই দুই কোম্পানির প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লিখার পার্থক্যটা পেয়ে যাবেন। এখানেও কন্টেন্ট রাইটারদের একটা চাহিদা রয়েছে।


অনলাইনেও ঠিক তেমন প্রতিদিন নতুন নতুন হাজারো কোম্পানি আসতেছে, লাখ লাখ ব্যবসাই শপিফাই কিংবা ইবে স্টোরে নতুন নতুন প্রোডাক্ট আপলোড করছে। এই প্রতিটি প্রোডাক্টের জন্যই কন্টেন্ট রাইটার দরকার। এর বাইরেও বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট প্রমোশন এর ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিং করে থাকেন আর একেকটি ইমেইল ক্যাম্পেইন এর জন্য ১০০/২০০ বা তারও বেশি ইমেইল কন্টেন্ট দরকার হয় আর সেক্ষেত্রেও কন্টেন্ট রাইটার দের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।


আমরা ইউটিউবে নিয়মিত যে ভিডিও গুলো দেখি সেগুলোর বেশির ভাগ ভিডিও তেই আমরা যে কথা গুলো শুনে থাকি সেই স্ক্রিপ্ট গুলোও কিন্তু টেক্সট কন্টেন্ট।

অর্থাৎ সেই স্ক্রিপ্ট গুলো কন্টেন্ট রাইটার রাই লিখে থাকেন। তবে কন্টেন্ট রাইটিং এর সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলো নিশ ব্লগ। এই ব্লগ গুলোতেই সবচেয়ে বেশি পরিমানে টেক্সট কন্টেন্ট দরকার হয়।
পরিশেষে আমরা এটা খুব সহজেই অনুমান করতে পারছি যে কন্টেন্ট মাত্র কয়েক প্রকার হলেও এর ক্ষেত্র অনেক অনেক বড়ো। অর্থাৎ কন্টেন্ট রাইটিং এ ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ক্লায়েন্ট ম্যানেজ কিংবা কন্টেন্ট রাইটিং এ ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে অন্য একদিন কথা বলবো। আজ এ পর্যন্তই। সাথে থাকার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।