Categories
BBlog

রাইটিং এ সফলতার চূড়ায় পৌঁছুতে একজন মেন্টরের নিকট থেকে যে যে সুবিধাগুলো আদায় না করলেই নয়

শিরোনাম দেখে যাই মনে হোক না কেন, চলুন আমরা আগে আমাদের শৈশব থেকে একটু ঘুরে আসি। শৈশব আর কৈশোরে আমরা অনেক ভালো ভালো স্কুলে পড়ার পরেও আমাদের প্রিয় মা বাবা কিন্তু আমাদেরকে প্রাইভেট টিচারের কাছে পাঠাতেন অথবা কলেজ বা ভার্সিটির কোন এক বড়ো ভাইয়াকে কিন্তু বাসাতেই নিয়ে আসতেন আমাদের পড়াশোনার গতি ঠিক করে দেবার জন্য।

যে অংকগুলো আমরা ক্লাসে বুঝতে পারতামনা সেগুলোই ওই ভাইয়ার কাছে কিন্তু খুব সহজেই বুঝে নিতে পারতাম। সেই ভাইয়া কিন্তু পরীক্ষার খাতায় আমাদেরকে অংক কোষে দিতেন না, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে ঠিকই সেই অংকগুলো আমাদের মাথার ভিতর ঢুকিয়ে দিতেন।

রাইটিং এর ক্ষেত্রেও কোর্স গুলোর ভূমিকাটা হয় কিছুটা স্কুলের ক্লাসের মতো। একটি কোর্স থেকে আমরা হয়তো অনেক সময় অনেক কিছুই বুঝে নিতে পারি না। আর সেজন্যই রাইটিং এর উপর অনেক অনেক কোর্স করার পরেও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একজন মেন্টরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, ঠিক যেমন অনেক ভালো স্কুলে পড়ার পরেও আমরা ভাইয়া দের কাছে প্রাইভেট পড়তাম।

তাহলে চলুন এবার দেখে নেই মেন্টরের নিকট থেকে আমাদের কি কি সুবিধা নেয়া দরকার।

প্রথমেই মেন্টরের নিকট থেকে যে সুবিধাটা নিতে হবে সেটি হলো কাজের নিশ্চয়তা।

যখন একজন মেন্টর আপনাকে কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন তখন আপনার ভিতরে আর এই হতাশাটা থাকবে না যে, কষ্ট করে স্কিল ডেভেলপ করার পর সেই স্কিল কাজে লাগানোর সুযোগ পাবো কি না।তার পরের বিষয়টি হলো নিশ আইডিয়া।

একটি কোর্স করার পর স্বভাবতই আপনার মনে হবে যে লাইফস্টাইল যেহেতু অনেক অনেক পপুলার একটা নিশ আর এখানে যেহেতু অনেক অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছে তাই এই নিশ নিয়ে লিখলেই মনেহয় অনেক ক্লায়েন্ট পাওয়া যাবে। কিন্তু দুই চার দশ টা কোর্স কমপ্লিট করে ফেলার পরেও অনেক সময় এইটা বুঝা সম্ভব হয়না যে লাইফস্টাইল আসলে কোনো নিশ ই না।এখন বলতেই পারেন যে লাইফস্টাইল টা তাহলে কি? জি, লাইফস্টাইল টা নিশ না, এইটা হলো নিশের দাদী, অর্থাৎ মাদার নিশ।

এখন আপনি ই বলেন একজন সড়োসী তরুণ রাইটার হিসেবে আপনার বাচ্চা নিশ তথা স্পেসিফিক নিশ দরকার, নাকি বুইড়া নিশ দরকার। তাই আপনার মেন্টরের কাছে থেকে আপনার জন্য একেবারে পারফেক্ট নিশটি খুঁজে নিবেন।

তৃতীয় বিষয়টি হলো টপিক আইডিয়া।

আপনি কোনো রাইটিং কোর্স থেকেই এইটা জানতে পারবেন না যে আপনার নিশে বর্তমানে কোন কোন টপিক গুলো নিয়ে লিখা দরকার, কোন কোন টপিক গুলো নিয়ে লিখলে দেশ বিদেশের বড় বড় ক্লায়েন্টদের নজর কাড়া সম্ভব। তাই আপনার মেন্টরের নিকট থেকে অন্তত আপনার নিশ রিলেটেড শও খানিক টপিক আইডিয়া আদায় করে নিবেন।

এই জিনিসটা আদায় করে নিতে না পারলে আপনি দুই দিনে আপনার নিশ নিয়ে মাত্র দশ টা টপিক খুঁজে বের করার পর দেখবেন যে আপনার মনে হচ্ছে আপনি সবগুলো টপিক খুঁজে পেয়ে গেছেন।

চতুর্থ যে বিষয়টি আদায় করে নিবেন সেটি হলো আর্টিকেল স্ক্যানার

এই স্ক্যানার দিয়ে আপনি লাখ লাখ আর্টিকেলের ভিতর থেকে আপনার প্রয়োজনীয় আর্টিকেলটি খুঁজে বের করে নিতে পারবেন। আর এতে অপ্রয়োজনীয় আর্টিকেলের পিছনে আপনার সময় নষ্ট হবে না। অবশ্য সেই স্ক্যানার দিয়ে আপনি কতটা সুক্ষ ভাবে স্ক্যান করতে পারবেন সেটা আপনার দক্ষতার উপরেই নির্ভর করবে।

পঞ্চম বিষয়টি হলো আর্টিকেল টেমপ্লেট বা ফরম্যাট।

একেক ধরণের আর্টিকেলের জন্য একেকরকম ফরম্যাট আছে, আবার একই টাইপের আর্টিকেলের জন্যও আছে ভিন্য ভিন্য ফরম্যাট। এই ফরম্যাট গুলো বুঝিয়ে নিবেন মেন্টরের কাছে থেকে। তা নাহলে আপনার সব লিখাই একটা নির্দিষ্ট ধাঁচের ভিতরেই আটকে যাবে।

৬ষ্ঠহলো সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়

মাছ নয় বরং আপনার মেন্টরের থেকে শিখে নিবেন মাছে ভরপুর পুকুর গুলো কিভাবে খুঁজে বের করতে হয় আর কিভাবে সেই পুকুর থেকে মাছ শিকার করতে হয়।আপনার মেন্টর চাইলে আপনাকে ছয়মাস বা ছয় বছর বিজি রাখার মতো দুয়েকটা ক্লায়েন্ট দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু ওই ক্লায়েন্টের প্রজেক্ট শেষ করার পর কি করবেন যদি আপনি আর কোনো ক্লায়েন্টই খুঁজে নিতে না পারেন? তাই আপনার মেন্টর আপনাকে ক্লায়েন্ট দিতে চাইলেও আপনি তা কখনোই নিবেন না। বরং কিভাবে ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করতে হয় সেটা শিখে নিবেন।

৭ম বিষয়টি হলো টাইটেল

একটা কন্টেন্টের সফলতার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে এই টাইটেল। তাই এই টাইটেল জেনারেট করার আর্ট টাও আপনার মেন্টরের সহায়তা নিয়ে রপ্ত করে নিবেন।

এখন যে বিষয়টি আপনার মেন্টরের থেকে আদায় করে নেবার কথা বলবো সেটার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। 

৮ম কন্টেন্ট অডিট করার কৌশল

আপনার কন্টেন্ট টি প্রপারলি এস ই ও অপটিমাইজড কিনা, অপটিমাইজড না হলে কিভাবে তার অপ্টিমাইজেশান নিশ্চিত করতে হয়, কিভাবে একটা গার্বেজ আর্টিকেলকে এনগেজিং করে নেয়া যায়, কিভাবে একটা কন্টেন্টকে রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড করা যায়, কন্টেন্টের ভিতর কিভাবে রিডার দের মনে থাকা প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে হয়, এই বিষয় গুলো মেন্টরের নিকট থেকে অবশ্যই বুঝে নিবেন।

৯বম বিষয়টি হলো কোয়ালিটি ভ্যারিয়েশন

এইটাও কিছুটা গুরুত্ব রাখে। যেমন ধরুন, একটা টপিকের জন্য একজন ক্লায়েন্ট আপনাকে প্রতি হাজার ওয়ার্ডের জন্য ৫০০ টাকা অফার করলো আর আরেকটি টপিকের জন্য আরেকজন ক্লায়েন্ট একই পরিমান ওয়ার্ডের জন্য পাঁচ হাজার টাকা অফার করলো। দুই জনই আপনার স্যাম্পল দেখার পর আপনাকে কাজটা দিতেও পারে আবার দুজনই না ও করে দিতে পারে।

এখন এইটা নিশ্চিত যে একই ভাবে দুই জনকে ফলোআপ করলে হয়তো একজন না করতে পারে আবার হয়তো দুজনই রিজেক্ট করে দিতে পারে। তাই আপনার মেন্টরের নিকট থেকে বিভিন্য লেভেলের ক্লায়েন্ট ফলোআপ করার কার্যকর ট্রিক্স গুলো অবশ্যই শিখে নিবেন। (বিগ ফিশ ফ্যাক্টস)কমার্শিয়াল রাইটিং এর কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তাই আপনি কখনোই একজন মেন্টরের নিকট থেকে এই রাইটিং এর এ টু জেড শিখতে পারবেন না।

আর রাইটিং থেকে আর্নিং করার জন্য এ টু জেড জানারও দরকার হয়না। যেটুকু দরকার সেটুকুও আপনি না চাইলে কেউ আপনাকে শিখিয়ে দিবে না, ঠিক যেমন বাচ্চা না কাঁদলে নিজের মাও দুধ দেয়না।আবার রাইটিং থেকে আর্নিং এর জন্য এক্সাক্টলি কি কি বিষয় জানা দরকার সেটাও নিজে নিজে বুঝতে পারা যায়না। তাই এটাও আপনার মেন্টরের নিকট থেকে জেনে নিবেন যে আপনাকে কি কি বিষয় জানতে, শিখতে ও আয়ত্ত করতে হবে।

এই বিষয় গুলো একজন মেন্টরের নিকট থেকে আদায় করে নিতে পারলে আমার মনে হয় রাইটিং এ সফলতা না ধরা দিয়ে থাকতেই পারবেনা।