Categories
BBlog

রাইটিং থেকে আর্নিং – সহজ নাকি খুবই কঠিন?

এটি এমন একটি বার্নিং কোয়েশ্চেন যার কোনো সঠিক উত্তর নেই। অর্থাৎ আমি যদি বলি সহজ তাহলে নিমিষেই একটা প্রাইমারি পাশ করা বাচ্চাও আমার উত্তরটা ভুল প্রমান করে দিতে পারবে, আবার আমি যদি বলি কঠিন তাহলেও বড় বড় সব রাইটার দের রেফারেন্স দিয়ে আপনারা আমার উত্তরটা ভুল প্রমান করে দিবেন।

তাই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে না যেয়ে চলুন দেখি কিভাবে রাইটিং থেকে আর্নিং করা যায়।রাইটিং থেকে আর্নিং করার অনেক অনেক উপায় রয়েছে এবং জেনে আশ্চর্য হবেন যে টপ বিলিয়নায়ার দের মাঝেও কেউ কেউ এই রাইটিং থেকেই বিলিয়ন ডলার আর্ন করেছেন। সবগুলো উপায় তো আমার জানা নাই, আর যত গুলো জানা আছে তার সবগুলো একদিন এ লিখে শেষ করাও সম্ভব নয়।

তাই আজ সবচেয়ে সহজ একটি উপায় আর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি উপায় এই মোট দুইটি উপায় নিয়ে কথা বলবো।

চলুন সহজটা দিয়েই শুরু করা যাক রাইটিং থেকে আর্নিং করার সহজ উপায়: 

রাইটিং এর উপর দক্ষতা অর্জন করার পর আপনি ফাইভারে একটি একাউন্ট তৈরী করুন। তারপর সেখানে রাইটিং এর উপর ২০/২২ টি গিগ তৈরী করুন। একদিন এ ১ টি মাত্র গিগ তৈরী করুন। গিগ ডিসক্রিপশন গুলো এমন ভাবে লিখুন যা পড়ে যেকেউ যেন আপনার রাইটিং স্কিল সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যায়।গিগ প্রাইস কিছুটা কম রাখুন প্রথম প্রথম। এতে অনেক ক্লায়েন্ট আপনার গিগ অর্ডার করার সাহস পাবে।

সাহসের কথা একারণেই বলছি যে কারো প্রোফাইলে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বায়ার রিভিউ দেখা যায়না ততক্ষন পর্যন্ত সেই রাইটারকে বিশ্বাস করাটা খুবই দুঃসাহসিক কাজ আর এত সাহস সবার থাকেনা

প্রথম দুইচারটা অর্ডার পেতে একটু সময় লাগবে। তারপর আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। অর্থাৎ ডেইলি দুইচারটা অর্ডার পেয়ে যাবেন যদি প্রথম দিকের ক্লায়েন্টরা আপনাকে ভালো রিভিউ দিয়ে থাকে। এখুনি ফাইভারে যেয়ে রাইটারদের প্রোফাইল গুলো চেক করে দেখুন যে কয়টা করে অর্ডার তাদের প্রোফাইলে কিউ আছে তাহলে বিষয়টা আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এবার চলুন কঠিন উপায়টা একটু দেখে আসি।

রাইটিং থেকে আর্নিং করার কঠিন উপায়: 

ফাইভার থেকে আর্নিং করা কিছুটা সহজ, কারণ সেখানে কোনো পোর্টফোলিও দরকার হয়না। ফাইভার প্রোফাইলটাই পোর্টফোলিও হিসেবে কাজ করে।কিন্তু সেটা খুব বেশি নির্ভরযোগ্য নয়, বরং বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ একারণেই যে, যদি দুয়েকজন নেটিভ টপ ক্লায়েন্ট নেগেটিভ রিভিউ দিয়ে দেয় তাহলে সেই প্রোফাইল থেকে আর যাই হোক, রাইটিং এর গিগ এ অর্ডার পাওয়া খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে। অনেক সময় তাই পুরাতন একাউন্ট বাদ দিয়ে অনেক কেই নতুন একাউন্ট তৈরী করতে দেখা যায়।

আবার অনেকেই আর এই ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই এই কঠিন উপায় টাই বেছে নেয়।এই উপায়টা তুলনামূলক কঠিন কারণ এখানে আপনাকে আপনার পোর্টফোলিও টা খুব সুন্দর ভাবে সাজাতে হয়। ফাইভারে আপনার ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইলে থাকা রিভিউ গুলো দেখে আপনার রাইটিং স্কিল এবং সার্ভিস কোয়ালিটি সম্পর্কে জানতে পারে। সেখানে নিজে নিজেই ফেইক রিভিউ অ্যাড করার কোনো সুযোগ থাকে না।

কিন্তু আপনার নিজের পোর্টফোলিও তে তো আপনি চাইলেই ইচ্ছা মতো রিভিউ অ্যাড করে নিতে পারেন। তাই আপনার এই পোর্টফোলিয়োটাকে বিশ্বাষযোগ্য করে তুলাটা একটুতো কঠিন হবেই।

কিন্তু যেহেতু এইটা একান্তই আপনার নিজের পোর্টফোলিও, তাই একবার এইটা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে পারলে, অর্থাৎ বেশ কিছু পজিটিভ ফিডব্যাক নিয়ে আসতে পারলে এইটার জনপ্রিয়তা হারানোর আর কোনো ঝুঁকি থাকে না।

উপরন্তু আপনি কোন ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দিবেন আর কোন ক্লায়েন্ট কে দিবেন না সেটা একান্তই আপনার বিষয়। কারো টপিক আপনার পছন্দ না হলে সেটা রিজেক্ট করার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার রয়েছে। অথচ মার্কেটপ্লেসে দুইচারটা অর্ডার রিজেক্ট করলে আপনার প্রোফাইলটাই সাসপেন্ডেড হবার ঝুঁকিতে পড়ে যায়।আর সর্বোপরি এখানে রয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা।

আপনি কখন লিখবেন, কতদিন পর ক্লায়েন্টকে আর্টিকেল সাবমিট করবেন, এই যাবতীয় বিষয় গুলো আপনার সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা আপনার রাইটিং কে করে তুলবে আরো প্রাণবন্ত। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কিভাবে এমন একটি নির্ভরযোগ্য রাইটিং পোর্টফোলিও তৈরী করা যায়।পোর্টফোলিও টাকে সিভির সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আপনার সিভিতে যেমন আপনার সম্পর্কে যাবতীয় বিষয় উল্লেখ থাকে যা দেখে একজন নিয়োগকর্তা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে আপনাকে ভাইভাতে ইনভাইট করা হবে কি না, ঠিক তেমন এই পোর্টফোলিওতে আপনার রাইটিং স্কিল এর একটা পূর্ণ বিবরণ দেয়া থাকে যা দেখে একজন ক্লায়েন্ট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন যে আপনাকে কাজটা দেয়া যাবে কি না।

কিভাবে একটি পোর্টফোলিও তৈরী করা যায়: 

রাইটিং থেকে আর্নিং এর যেমন অনেক উপায় রয়েছে, পোর্টফিলিও তৈরিরও তেমন বেশ অনেক গুলো উপায় রয়েছে। তার ভিতর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য উপায়টি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।ডোমেইন, হোস্টিং, কন্টেন্ট আর কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম – এই চারটা জিনিস দরকার একটা প্রফেশনাল আর রিলাইয়েবল পোর্টফোলিও তৈরির জন্য। এর ভিতর তিনটা জিনিসই স্ট্যাটিক তথা অপরিবর্তনীয় ও অপরিবর্ধনীয় আর শুধু কন্টেন্ট টাই ডায়নামিক তথা প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।শুধুমাত্র এই কন্টেন্টকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্যই বাকি ৩ টি জিনিসের দরকার।

আচার কিংবা আইসক্রিম যেমন বিভিন্ন দোকানে কিনতে পাওয়া যায় ওই ৩ টি জিনিসও তেমন দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কিনতে পাওয়া যায়।ডোমেইন, হোস্টিং রেজিস্ট্রেশান করার পর কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইন্সটল করে আপনার পোর্টফোলিওটি আপনার জন্য ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে ঘন্টা খানিক সময় লাগতে পারে। ইউটিউব দেখে আপনি নিজে নিজেও করতে পারেন কিংবা আপনার মেন্টরের সহযোগিতা নিয়েও করতে পারেন।

ডোমেইন একটা নাম বৈ অন্য কিছুই নয়। বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর যেমন আকিকা দিয়ে একটা নাম রাখতে হয় এইটাও ঠিক তেমন। আপনার পছন্দ করা নাম টা যাতে চাইলেই যেকেউ নিজের বলে চালিয়ে দিতে না পারে সেজন্যই রেজিস্ট্রেশান বা নিবন্ধন করে নিতে হয়।অর্থাৎ আপনার নিজের নামটি অনামিকা (আমার পছন্দের এমন একটি নাম যে নামের কেউ আমার ফেসবুক বা বাস্তব জীবনের ফ্রেন্ডলিস্টে কিংবা কোনো লিস্টেই নাই তাই এই নামটি নিলাম, আপনার নামের সাথে মিলে গেলে মাফ করবেন প্লিজ) হলে আপনি অনামিকা, বাইঅনামিকা, রাইটউইথঅনামিকা, ডাইরিঅফঅনামিকা বা এরকম যেকোনো একটা ডোমেইন বেছে নিতে পারেন।হোস্টিং হলো মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো। আপনার পোর্টফোলিওতে আপনি যে কন্টেন্ট গুলো রাখবেন সেগুলোর ডাটা আপনার হোস্টিং এ সংরক্ষিত থাকবে।

আর কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা WordPress টা হলো আপনার মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম এর মতো। এর সাহায্যে আপনি আপনার কন্টেন্ট গুলোকে খুব সহজেই সাজাতে পারবেন।এতক্ষনে আপনার পোর্টফোলিওটি আপনার ব্যবহার করার জন্য তৈরী হলো। এবার যে জিনিসটি বাকি থাকলো তা হলো কন্টেন্ট। প্রায় সবারই একটা প্রশ্ন থাকে যে কি লিখবো? সেই প্রশ্নের উত্তরটি এবার খুঁজে পাবেন। আপনার পোর্টফোলিও তে প্রথম যে কন্টেন্টটি দরকার তা হলো About Me

অর্থাৎ আপনার নিজের সম্পর্কে লিখুন। আপনার ছেলেবেলা, আপনার পড়ালিখা, আপনার ভালোলাগা আপনার সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব লিখুন, যত গুছিয়ে সম্ভব আপনাকে তুলে ধরুন। এমন মাধুর্য মিশিয়ে লিখুন যেন সেটা পড়া মাত্রই আপনার ক্লায়েন্ট আপনার প্রেমে পড়ে যায়।এবাউট মি লিখার পর আপনি আপনার সার্ভিস পেজটি লিখে ফেলতে পারেন।

এই পেজে আপনি কত ওয়ার্ডের জন্য কত চার্জ করেন, কোন ধরণের আর্টিকেলের জন্য কত চার্জ করেন, কেন এত টাকা চার্জ করেন তার বিস্তারিত তুলে ধরুন।

কেন এত টাকা চার্জ করেন

সে বিষয়টি এই পেজের সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ দিক। আপনি কেন এত টাকা চার্জ করেন সেটা যদি ভালোভাবে এক্সপ্লেইন করতে না পারেন তাহলে ক্লায়েন্ট আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী পেমেন্ট দিতে রাজি হবে না। অর্থাৎ এখানে আপনার স্কিল লেভেল টি খুব ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।এর পর আসবে ক্যাটেগরি।

আপনি নিশ্চই আপনার লিখালিখি একটা মাত্র ক্যাটেগরিতে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। একটা মাত্র ক্যাটেগরিতে সীমাবদ্ধ রাখলে আপনার ক্লায়েন্টের সাথে সেই ক্যাটাগরি ম্যাচ করার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে। আবার খুব বেশি ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করলেও আপনার বিশেষত্ব হারিয়ে যাবে। তাই তিন চারটা ক্যাটাগরি তৈরী করতে পারেন।আপনার যদি ছোট্ট বাচ্চা থাকে তাহলে বাচ্চা মানুষ করার প্রতিটি বিষয় আপনার খুব ভালো ভাবে মনে আছে। সেই ক্ষেত্রে আপনি প্যারেন্টিং ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করতে পারেন। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ক্যাটাগরি এবং এই ক্যাটাগরিতে কাজ করলে অনেক অনেক ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়।

তবে একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, একটি ক্যাটাগরি যতই পপুলার বা যতই ভালো হোক না কেন সবার জন্য সেটা উপযুক্ত নয়। আপনার জন্য যথোপযুক্ত ক্যাটাগরি গুলো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আপনার মেন্টরের সহায়তা নিতে ভুলবেন না। রাইটিং এ মেন্টরের ভূমিকা বাস্তব জীবনে অনেকটা ডাক্তারদের মতো, যাদের নিকট আমাদেরকে বার বার যেতে হয়।

পিতামাতারা যে শুধু প্যারেন্টিং টাই জানে, আর রান্নাবান্না কিংবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কিছু জানেনা এমনটা কিন্তু নয়। তাই আপনি কুকিং আর ক্লিনিং নাম দিয়ে আরো দুইটি ক্যাটাগরি তৈরী করে নিতে পারেন।এবার আসলো স্যাম্পল আটিকেল লিখার পালা। মার্কেটপ্লেসের বাইরে কাজ করতে গেলে এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কি কি টপিক নিয়ে লিখবেন তা নিয়ে তো আর ভাবতে হবেনা। আপনার জীবনের অভিজ্ঞতা গুলোই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক আর সেই টপিক গুলোর কোনটা দিয়ে শুরু করবেন আর কোনটার পর কোনটা লিখবেন তা নির্ধারণ করা আরো সহজ।প্যারেন্টিং এর পূর্বে কোন বিষয়টি আসে? নিশ্চয় প্রেগনেন্সি।

আপনার জীবনের সেই অভিজ্ঞতার কথাটা একটা আর্টিকেলের ভিতর খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সে সময় টায় হাজবেন্ড হিসেবে কি করা উচিত, ওয়াইফ হিসেবে কোন কাজ গুলো বর্জন করা উচিত, আপনি সেগুলো কতটা ফলো করেছিলেন, এর ফলে সাধারণত ডেলিভারির সময়ে যে ঝুঁকি গুলো থাকে সেগুলো থেকে কতটা নিরাপদ ছিলেন, এই টুকিটাকি বিষয় গুলো ইনক্লুড করলেই প্যারেন্টিং এর উপর চমৎকার একটি ইউনিক আর্টিকেল লিখা হয়ে যাবে।

এভাবে প্রতিটা ক্যাটাগরিতেই দুই তিনটা করে আর্টিকেল লিখে ফেলুন। প্রতিটা আর্টিকেলের জন্য সুন্দর সুন্দর টাইটেল দিন। সব মিলিয়ে দশ বারোটা আর্টিকেল লিখা হলে এবার সেই টপিক গুলো গুগলে সার্চ করে করে অন্যদের আর্টিকেল গুলো খুঁজে বের করুন।তাদের আর্টিকেল গুলোর সাথে আপনার আর্টিকেল গুলোর তুলনা করুন, কোন কোন বিষয় গুলো আপনার আর্টিকেলে বাদ পড়েছে, তাদের টাইটেল গুলো কেমন, তারা কিভাবে একটার পর একটা বিষয় তাদের আর্টিকেলে ফুটিয়ে তুলেছে সেগুলো লক্ষ্য করে আপনার আর্টিকেল গুলো আপডেট করুন।

ফেসবুকের রাইটিং জব পোস্ট গুলোর দিকে দেখলে প্রায়শই চোখে পড়ে যে – এস ই ও জানা রাইটারদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এই এস ই ও টি আসলে রাইটিং এর বাইরের কিছু না। আপনি যে টপিক টি নিয়ে লিখছেন সেই টপিক টির সাথে আপনার টাইটেল কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, টাইটেলের সাথে ভিতরের লিখা গুলো কতটা প্রাসঙ্গিক, আপনার আর্টিকেলের মাঝে আপনি সাবটাইটেল ইউজ করেছেন কিনা, সাবটাইটেল গুলো মূল টাইটেলের সাথে সম্পর্কিত কিনা এই বিষয়গুলোর মান যাচাই ও উন্নয়ন করাই এস ই ও এর কাজ।

আপনার লিখার ভিতর এই সিম্পল কাজ গুলো যদি করা না থাকে তাহলে একজন ক্লায়েন্টকে আপনার আর্টিকেলটি পাবলিশ করার আগে অন্য আরেকজন রাইটার দিয়ে সাজিয়ে নিতে হয় বা অপ্টিমাইজ করে নিতে হয়। তাই ক্লায়েন্টরা সাধারণত এস ই ও জানা রাইটার দেরকে প্রাধান্য দেন।

আপনার নিজের ব্লগে আপনার আর্টিকেল গুলো যখন এমন সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখবেন তখন ক্লায়েন্ট দের আপনার এস ই ও নলেজ সম্পর্কে ধারণা পেতে কোনো কষ্ট হবে না। এস ই ও শিখতে যে খরচ টা হবে তা দিয়ে নিজের পোর্টফোলিয়োটা তৈরী করে ফেলা টাই অনেক অনেক ভালো ডিসিশান।এবার আসলো হোম পেজ তৈরী করার পালা। এতদিন ধরে এতগুলো আর্টিকেল লিখেছেন, এবাউট মি লিখেছেন, সার্ভিস পেজ লিখেছেন, সেগুলো একেকটা একেক পেইজ এ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

আপনার সিভি যেমন একটা কাভার লেটার এর সাথে সম্পৃক্ত করেন, আপনার এই হোম পেইজ টাও ঠিক তেমন।আপনার এবাউট মি থেকে শুরু করে স্যাম্পল আর্টিকেলের সবকিছুই এই হোম পেইজে সাজাতে হবে। আপনি ইউটিউব দেখেও আপনার হোম পেইজ টা সাজাতে পারেন আবার আপনার মেন্টর এর সাহায্য নিয়েও সাজাতে পারেন।এখন আপনার পোর্টফোলিয়োটা মুটামুটি রেডি। এবার এটাকে সমৃদ্ধ করার পালা আর ক্লায়েন্ট দের নজর কাড়ার পালা।

ক্লায়েন্ট দের নজর কাড়ার বিষয়ে অলরেডি একটা পোস্ট করেছি আর নজর কাড়ার আরো কিছু চমৎকার টিপস নিয়ে অন্য একদিন লিখবো।মজার বিষয় হলো আপনার পোর্টফোলিও ছাড়া আপনি যখন তাদের নজর কাড়ার চেষ্টা করবেন তখন তারা আপনাকে তেমন একটা মূল্যায়ন করবে না। কিন্তু আপনি যখন তাদেরকে আপনার স্যাম্পল আর্টিকেল দেখার জন্য আপনার পোর্টফোলিওটি ধরিয়ে দেবেন তখন এমনিতেই আর দশ জন রাইটার এর সাথে আপনার একটা পার্থক্য ও বিশেষত্ব তৈরী হয়ে যাবে। আর এই বিশেষত্বই আপনাকে আপনার প্রত্যাশিত অনারিয়ামের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এমন আরো মজার মজার টিপস জানতে আমাদের Writing-Hacks ফেসবুক Group এ জয়েন করুন 🙂